যারা এখনো শুধুই বন্ধু, বন্ধুর চেয়ে বেশী হয়েও অন্ধ, কিংবা জানালার একটা পাল্লা বন্ধ, একটু ভাল আর একটু মন্দ

তাদের জন্যেই কিছু এবড়ো খেবড়ো ছন্দ, তাদের জন্য কবিতা-গল্প, অল্প স্বল্প প্রেম, আড্ডা, হঠাৎ মেঘ এবং বৃষ্টি।

Showing posts with label অকবিতা. Show all posts
Showing posts with label অকবিতা. Show all posts
কিছু সম্ভাবনা শিল্পের সংশ্রব পেয়েছে, কিছুটা হয়েছে ফাঁকি।
কিছু স্বপ্নঘাতক, আর কিছুটা আমার মধ্যে বাকি।
কিছু প্রশ্ন প্রত্যয়, কিছুটা ছুঁয়েছে তোমার চোখ।
কিছু সংকল্প যৌনতার জরায়ু প্রাচীরে, ওর পৃথিবীটাও আমাদের হোক। 
কিছু মাতৃয় প্রসব বেদনায়, কিছুটা অঙ্গার প্রশমিত।
কিছু বিশ্বাস আশ্রিত, কিছুটা যোগ্যতার ভয়ে ভীত।
কিছু সম্পর্ক সমকামিতা, কিছু দাম্পত্য মৃত।

কিছু প্রেম খাঁটি, কিছুটা একঘেয়ে অবসৃত। 

বন্ধুত্ব

সে পথ আর পা মিলিয়ে হাঁটে না এক পথে।
সে মুহূর্ত আজ ধরা দেয় না সময় কে বস মেনে।
কর্মসূত্রে দূরত্ব বাড়েনা, বাড়ে কর্মযজ্ঞের মনোমালিন্যে।
সে মানুষগুলোও আজ হাসে না মুখোশের আড়ালে।
দূরত্ব বাড়লে শুধু সম্পর্ক নয়
নিজের ছায়াকেও প্রকাণ্ড মনে হয় আয়নায় দাঁড়ালে।

একটি মধ্যরাতের ইতিবৃত

একটি নির্জন ঘরের মধ্যে, বিছানায় বসে,
ল্যাপটপে আমি চলচ্চিত্র দেখি, মধ্যরাতে
চলচিত্রের রোমান্টিক গানের মতো রাত্রিটা
বয়ে যাচ্ছে চৈত্রের বুকের ওপর দিয়ে
ধু ধু বাতাস যেন খেই হারিয়ে বসে আছে
দূরমাঠে কোনও এক বটগাছের শেকড়ের ঝুড়িতে
একটি অর্ধবৃত্তাকার জ্যামিতি নির্বোধের মতো
তাকিয়ে আছে এক দৃষ্টিতে
কোনও ষোল বয়সী রূপসীর
আত্মবিশ্বাসহীন হাসির মতো
ছবির বিষণ্ণ লিরিক্সগুলো
এ ওর গায়ে ঠোকাঠুকি করতে করতে
পায়চারি করছে নিঃস্ব বারান্দায়
বখাটে জ্যোৎস্নার এই উন্মাদ  রাতে
জিরো পাওয়ারের বাল্বগুলিরও আজ ছুটি
ভূমধ্যসাগর থেকে ভেসে আসা স্ফীত ঢেউগুলি
উড়ছে মেঘের ওপর দিয়ে;
আর মেঘ ঝুঁকে পড়ছে
কোথাও জল ছুঁই ছুঁই, ঝিলের দিকে
ক্ষুধার্ত পেটের মধ্যে হঠাৎ মুচড়ে-ওঠা একটা দহন
অপহৃত নাবালক আর কিছু পরকীয়া বন্ধুত্বপ্রবণ
বেঁধে নেয় অন্য এক চিন্তাসংকলন।
অনায়াসে বহু হৃদয়ের সাথে গড়ে তোলা যুক্তরাজ্যগুলি;
পৃষ্ঠা খোলে আমার সংশয়-রচিত দৃশ্যপাঠে
দূর থেকে দেখা যায় তোমার উড়ন্ত চুল
অবাধ্য হতে হতেই আবার পোষ মেনে যাচ্ছে
তোমার নিঃসঙ্গ হৃদয়ের মধ্যে 
দুপুরের সেই নির্ঘুম শান্ত অজগরটি শুয়ে আছে;
যার হঠাত জেগে ওঠা  নিঃশ্বাস,
আমাকে উড়িয়ে নেয় সেই আকাশের বুকে
যেখানে পাখিরা, ঐ সাদাকালো চলচিত্রটির মতো
ক্লান্তিহীন উড়ছে, উড়ছে,আর উড়ছে 

আবির দাদার জন্মদিনে কবিতাটা আবিরদাদার জন্য

আজ উঁকি মেরে দেখছে সাগর নীল আকাশ
পরক্ষনেই চুরি যায় দা ভিঞ্চির ক্যানভাস
ল্যাদ ল্যাদ আর ল্যাদ কুঁড়ে খায় বারোমাস
ফাঁক পেলে খুঁজে নেয় ছুটির অবকাশ

শীতকালে শীতঘুম দুপুর হয় প্রাতরাশ
ঠোঁটে চুমু নেই, আছে নিকোটিন আর ছাইপাঁশ।
সময়ের স্রোতে ধুলো পরা ভালোলাগা একরাশ
হৃৎস্পন্দনে ক্লোরোফিল, জমা হয় দীর্ঘশ্বাস।   

মাসিমা (সিরিজ ৩) - শুভদ্বীপ দেব কে উৎসর্গ করে

মাসিমা প্লীজ ভুল বুঝবেন না
ধর্মতলার মোড়ে ওভাবে ডিম পারবেন না।

মাসিমা শুভ আর আগের মত নয়
কনভারসের ফিতে আলগা দিয়ে সিকিউলার হয় হঠাৎ
কবিতার প্রতি স্তবকে তার বন্দী হয় কিছু অনুভব
আবার কখনো প্রিয়তমাকে ভালোবেসে
ঠুনকো স্যানিটারি গিফটে হলুদ নিওস্প্রিণ্ট লাগায় লজ্জায়।

মাসিমা ভুল বুঝলেন?
শুভর প্রতিটা দিন কাটে ভালোবেসে
ঝুলে থাকা কালপুরুষের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে
অন্ধ অক্ষম চোখের কালো চশমায় গ্রাস করে নিজের পৃথিবী
শুভর মাথায় ঘোরে কিছু অবান্তর বাস্তব
E= MC²  বা অংকের ইন্টিগ্রেশন ডেরিভেটিভ গুলো মাথায় না ঢুকলেও
শুভ কিন্তু ভালো কবিতা লেখে।   

আয় বৃষ্টি ঝেপে

অফিস থেকে ঘরে ফেরার পথে
উঠে পড়ি জলন্ধর লোকালে।
গাদাগাদির সৌজন্যে ভেতরে ঢোকার সৌভাগ্য করে দেয়নি কেউ।
না কোনও মানুষ, না কোনও মাতাল।
দরজার পাশে বঞ্চিত সরীসৃপের মত এগিয়ে গেলাম।
একটু জায়গা, একটু জায়গার বড় আকাল।
একটার পর একটা স্টেশন গেল।
নিজের নিঃশ্বাস কে আরও তীব্র মনে হল।
নিজেরটা তীব্র অসন্তোষ মেনে নিলেও
আর যেগুলো ভেসে আসছে প্রত্যেকটার অন্যরকম বহর।
আমি না পারলেও কখনো কখনো ঢুকে যায় কিছু অক্ষর।
খেয়াল করিনি ডান পায়ের গোড়ালি বেশ খানিকটা ছুলে গেছে।
চলন্ত ট্রেন এর হাতলে ছুঁয়ে গেছে দুটো ভিন্ন লিঙ্গের হাত।
কিশোরীর চোখ তখন আটকে গেছে
এক শহুরে বাউলের চোখে।
বৃষ্টির ছাট এসে বার বার ভিজিয়ে দিচ্ছে
কিশোরের বুকের অপরিণত সরলরেখাকে।
কিশোরী চোখের ভাষায় বলছে,
আর মাত্র দুটো স্টেশন, আমি কি একটু অবাধ্য হতে পারি?”
বৃষ্টি থামলে কি হবে, বাউলের পা জড়িয়ে আসছে,

মন চাইছে আয় বৃষ্টি ঝেপে।

ভেঙ্গে গেলেও গুঁড়ো হয়ে যাইনি

আসলে বাজে বকওয়াস এখন প্রায় ছেড়েই দিয়েছি। আর সত্যি কথা বলতে গেলে গত ৬-৭ মাস ধরে চেষ্টাই করিনি। আর না করে অজুহাত দিয়ে চলেছি একটার পর একটা। কি লিখব না লিখব ভাবতে ভাবতে এই লাইনগুলোই ঘুরপাক খাচ্ছিল মাথার মধ্যে। টাইপ করে ফেললাম।


অতল গভীরে তলিয়ে যাওয়া একটা স্বপ্ন
বাঁচে কিনা ডলারকে পাশ বালিশ করে
বা কখনো নেলপালিশের গন্ধে মিশে যাওয়া
দুটো নিয়ম মাফিক মিথ্যে কথা হাওয়ায় ওড়ে
সেলফোনে রাগের মাথায় ডিলেট করে দেওয়া এস.এম.এস. গুলোকে
খুঁজতে যাওয়া অবুজ ছেলে
আজ নিয়মিত প্রেম করছে ফেসবুকে
জীবনযাপনে নেই কোন বিশেষ কৌশল
রাত জেগে জেগে নিদ্রাহীনতার রোগ ছুয়েছে ঘর বাড়ী
কিছুই মনে নেই!
ভুলে গেছি- তোমার শরীরের ঘ্রাণ, মুছে গেছে আচরের দাগ!
হারিয়ে ফেলেছি বাজারের লিস্টের মত
 "১.ভালোবাসি ২.ভালোবাসি ৩.ভালোবাসি"

দুপাশের সাঁড়াশি আক্রমণে নিজেকে যেন 
আধখাওয়া কামড় দেওয়া পাউরুটির মত লাগছে
জীবনের ছক্কাটা যতই বারবার ঝাঁকাই "এক" এর বেশি কিছুই দেয়না।
শতবার স্নানের পরেও করুন দশাটা দেখে নিজের মনে গভীরভাবে হাঁসি।
আত্মকাহিনী, ক্ষোভ, আর অল্প কিছু পাওয়ার ঠিকানা।
কে যেন বলতো আমি নাকি সব পারি।
হয়তো পারি বলেই ভেঙ্গে গেলেও গুঁড়ো হয়ে যাইনি।

রামগরুড়ের ছানা

এই রামগরুড়ের ছানা
তোর হাসতে কেন মানা?
হাসির কথা শুনলে বলিস
হাসব না না না না।
মাতঙ্গিনীর উল্লাসে,
ঝড় যখন ঐ আসে,
ভয় আর সন্ত্রাসে
আড় চোখে তুই মিটমিটিয়ে
তাকাস আশেপাশে।
তোর ঘুম নেই দুই চোখে,
কে তোকে আজ রোখে?
তুই আপনিতে যাস বকে
কোন স্বপ্নের ঝোঁকে?
তুই যাস না বনের কাছে
কিম্বা গাছে গাছে
দখিন হাওয়ার ধাঁচে
কেউ যদি হাসে পাছে
শান্তি নেই তোর মনে
মেঘের কোণে কোণে
তুই থাকিস দিন গোনে
কোন সে নির্জনে
ঝোপের ধারে ধারে
রাতের অন্ধকারে
হঠাৎ নির্বাকারে
তুই কাঁদিস বারে বারে।
রামগরুড়ের ছানা
তোর কিসের এত ব্যাথা?
ছাই ভরা তোর মাথা
তুই বানাস নকশীকাঁথা
রামগরুড়ের ভাষা
পড়তে খুবই ঠাঁসা
হাসির হাওয়া বন্ধ সেথায়
নিষেধ শুধু হাসা।

হা হা হা হা হা হা।

একটি নির্দোষ প্যারোডি

বল সব
বল সব
বাঁচাল দ্বীপ করে রব।

আকাশ পাতাল বিদেশ ছাড়িয়া,
জলন্ধরে রয়েছি পড়িয়া।
আমি গড়েছি এই ব্লগ।
আমি নইতো কোন ঠগ।

আমি দ্বীপ
আমি ক্যাচালকে দেই উষ্কে
পাছে হিট যদি যায় ফস্কে।
আমি করে দেই সব ব্যান,
তাই চলবেনা হ্যান ত্যান।

মম এক হাতে হুইস্কির গ্লাস,
অন্য হাতে সিগারেট,
এক পোস্ট থেকে আরেক পোস্টে সদা,
আকাশ ফুড়ে ফুড়ে,
যাই উড়ে উড়ে
যেখানেই দেখি উলটা পালটা
ব্লগ নিয়ে আসি তেড়ে।

আমার সাথে টালটিবাজি
তুমিই নাকি মাগিবাজি?
তুমিই নাকি ত্যাদড়?
ওরে কুশল তাপস
কে আছিস আমায় রে ধর!

হা হা হা পায় যে হাসি
তাদের করবো খাসী?
হিটেরা আসবে কী আর!
তাহারা আমার ডিয়ার।
সাম্যের গান গাই -
আমার চক্ষে কোন ভেদাভেদ নাই।

আমি ভীম সাবান আর মাইন
ত্যাড়ি বেড়ি করলে করি লাইন।
চান্স পেলেই ডান্স মেরে দেই
করি সাইবারাইন।
উলটা পালটা না করে যাও ফুটে
নাইলে ধরবো থুতনী টুটে।

আমি নই তো কোন কাওয়ার্ড
ভালো লাগে পেতে অ্যাওয়ার্ড।
ভালো লাগে খেতে মুড়ি আর মোয়া
ভালো লাগে পেতে ত্যাল,
উলট পালট করলে তোমায় করবো জেনারেল।

ডালের চেয়ে ভালো লাগে খেতে মাংস
কোয়ালিটি নয়
কোয়ান্টিটির জয়।

আমি দ্বীপ হিট ক্লান্ত
আমি সেইদিন হব শান্ত
যবে প্রথম পাতায় থাকবে ক্যাচাল শুধুই,
হিটের চোটে লাগবে সব মধুই।

* আমার পাগলা কীবোর্ড কই থেইকা কই লইয়্যা যায়! লিখতে বসলাম কী আর হইলোটা কী! বাস্তবতার সাথে মিলহীন একটি লেখা। দাদা ও দিদিরা অন্যভাবে না নিলেই খুশী হবো।  

এটা কিন্তু কবিতা নয়

আজ হঠাৎ আকাশটা আবার মনে হল চেনা
আজ হঠাৎ আবার যেন হলাম আনমনা
আজ হঠাৎ হারিয়ে গেলাম অতীত দিনের স্রোতে
আজ হঠাৎ আবার ইচ্ছে হল আমার উষ্ণ হতে
আজ হঠাৎ তোমার স্মৃতি ফিরছে বারবার
আজ কি তবে তোমায় আমি হারালাম আবার।


আজ হঠাৎ ভীড়ের মাঝে বড় এলোমেলো লাগল মনটা
অবিন্যস্ত কিছু চিন্তা আর মন খারাপ করা একটা বিকেল বেলা
ভেবেছিলাম দিনটা হবে অন্যরকম, ভাবিনি কেমন করে হবে।
কিছু ব্যস্ততা, একটা উষ্ণ বিকেল আর অচেনা সেই মন খারাপের গন্ধটা  
এক পশলা বৃষ্টি হয়েছিল আজ, স্রোতের গন্ধ বুকে নিয়ে,
ভেসে যাওয়া মেঘগুলো দেখে কোথায় যেন মনটা গেল হারিয়ে
ভেবেছিলাম কাটাবো একটা দিন শুধু তোমার সাথে একলা হয়ে কোথাও
দুটো মুহূর্ত আর অনেকটা ভাবনা এলোমেলো খরস্রোতা
আজ ভাসাবো অনেক কাগজের নৌকা পাঠাবো অনেক না বলে ওঠা বার্তা। 

এলোমেলো

নদী বলেছে বদলাবে পথ
বাঁকের শেষে একলা পারে
বসে আছে সে মেঘলা মনে
হারিয়ে গেছে মেঘেরই দেশে
মেঘ কেটেছে রোদ উঠবে বলে
ঝড় থামবে নতুন শুরু হবে বলে
কিছু আদর জলে ধুয়ে যাবে
বাকি সব স্মৃতি হয়ে মনে ‍রয়ে যাবে।

সাপ লুডো

ওরা পথের ধারে গড়াগড়ি করে ধুলো বালি মেখে
কানা চাল আর মোটা ভাতে দিন কাটায় সুখে
ছেঁড়াখোঁড়া জামা পড়ে হাত বাড়িয়ে দাঁড়ায়
ভাঙ্গা খেলনায় আনন্দ পায় নালার জলে ঝাঁপায়

ফুটপাথে হাত মেলে দেয়, আধুলি পয়সা ফুটো
সবুজবাতির রং রুটে খেলুক সাপ লুডো
দেখে ভাবি এসব নিয়েই আছে ওরা বেশ

মই দিয়ে ওপরে ওঠে সাপের মুখে শেষ।

একটু অন্যরকম

 অন্যরকম গল্পগুলোর অন্যরকম মানে
অন্য মানে অন্য কেন অন্য লোকে জানে
অন্য কোথাও অন্য ছলে অন্য আকাশ দেখে
অন্য রকম মেঘের বুকে অন্য বৃষ্টির চোখে
অন্য তুমি অন্য মনন অন্য রকম ছোঁয়া
অন্য রকম ভাবনা ভেবেও অন্য স্মৃতির হাওয়া।
অন্যরকম দশার খোঁজে অন্য রকম মন
অন্যরকম তোর ছায়াতে অন্য মন কেমন
অন্যরকম কারণ অকারণে অন্য চাওয়া পাওয়া
অন্যভাবে অন্য হয়ে ভালবাসতে চাওয়া
অন্যরকম যদি হত অন্য রাজার কন্যে
অন্য দেশে দিশাহারা রাজপুত্তের জন্যে
যখন অন্যভাবে অন্য বেশে পক্ষীরাজে ভেসে
জিয়নকাঠি ছুঁয়ে যাবে রাজকন্যার কেশে
অন্যরকম ভাবনা গুলোর অন্যরকম ভাষা

অন্য না হয় নাই বললাম এসব অন্য আশা।

ছন্দবদ্ধ

রাতের কাহিনী ভেবেছিলাম নাম
তারপর লিখতে ভুলে গেলাম
স্বপ্নভঙ্গ নির্ঝরের একার
স্বপ্ন নেই স্বপ্ন নিয়ে বাঁচার
একটা দুটো শব্দ আসে হাতে
ছন্দগুলো হারায় খরচাখাতে
যুদ্ধ করে শব্দ লেখা হয়
ভাবনাগুলো তবু কুয়াশাময়
বদলে গেছে জীবন নাকি আমি?

উত্তর নেই আজ প্রশ্নটাই দামী

আমার কিছু কথা ছিল

ছন্নছাড়া আঁধার আর বৃষ্টির কাছে পরাজিত একফালি মেঘ
অনন্ত রক্তিম পথে আগুন্তুকের খন্ডিত মস্তক ।
পাশবেঁয়ে একটা লাল পিঁপড়ের সারি বহুদুর
ঠিক যেন সূর্য্যপথের দিকে অন্তিম যাত্রা ।
সূর্য্য আলিঙ্গনে ভাব রক্তবর্ণ 
আর গলে পড়া লাশের দুর্গন্ধ 
সর্বত্র ছড়িয়ে বাতাসের পান্ডিত্ব
নিরীহ চিত্তে প্রকৃতির আত্বসমর্পন ।
একঝাঁক কালো ভ্রমরের আত্বদহন আর
ফোঁস করে ছোবল মারা কেউটে সাপ,
আর মাছি হয়ে উঁড়ে বেড়ানো ।
আমার কিছু কথা ছিল,
পৃথিবীর বিপরীতে নয়
সোজা এক কক্ষপথে
তোমাদের কাছে।

বাস্তবিক আমি একজন মানুষ। 
রক্ত-মাংসের একজন সাধারন মানুষ,
রয়েছে আবেগ, রয়েছে ভালবাসা
কাম-ক্রোধ এমনকি হিংসে রয়েছে খানিকটা।
একদম ভাল মানুষ হতে পারিনি কখনো।
ভাল মানুষ হতে গিয়ে ফিরে এসেছি,
দ্বিধাকে ছুঁড়ে ফেলতে গিয়েও
দ্বিধার উপত্যকায় আমি উদাস হয়েছি।
কখনো কখনো বোকার মতো হলেও
বোকা মানুষ হতে পারিনি এখনও।
আমাকে একজন মানুষ
ভাবতে পারো মাত্র।
কেনো জানি, আমার চোখে অথবা প্রতিবিম্বে
ভাল মানুষ হতে পারি না কখনো,
কেবলই একজন মানুষ থাকতে চাই,

বাস্তবিক আমি একজন মানুষ।

ছন্নছাড়া

কলেজ থেকে ইউনিভারসিটি 
প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দৌড়ে 
বন্দী এক নতুন ইমারতে 
বদলাল পরিস্থিতি বদলাল শহর। 
বদলাল না কিছু স্বভাব, 
বদলাল না কিছু জবাব।
আচ্ছন্ন হতে চাইছে মন, 
আঁকড়ে ধরতে চাইছে 
কিছু ভুলে যাওয়া স্মৃতিকে। 
শুনতে চাইছে কিছু না বলা কথা। 
খুঁজছে কিছু হারিয়ে যাওয়া প্রতিচ্ছবি।

আশেপাশের মানুষগুলো যখন 
ব্যস্ত নিজেদের আঁখের গোছাতে, 
আমি তখন কবর থেকে 
অস্তিত্ব খোঁজার পথে।
বন্ধুদের ভিড় থেকে অনেক দূরে, 
মিথ্যে কথার জঞ্জাল সরিয়ে, 
দৈহিক সম্পর্কের জটিলতা এড়িয়ে, 
মন চাইছে আজ একটু একা হতে।

ছন্নছাড়া ভাবনা আমার 
মেলছে মনে ডানা, 
তাই আবোল তাবোল শব্দ জুড়ে 
নষ্ট করছি সময়খানা।

খামখেয়ালীপনা

আপোষহীন কোনও নীল রঙের আভায়
বিবর্ণ তোমার নারী মন। 
তোমার শূন্যতার গভীরে প্রতীক্ষায় আমি 
হচ্ছি কোনও স্বীকারোক্তির বিচারে দহন।

পুরনো খাতার আনাচে কানাচে লুকিয়ে থাকা 
তোমার নাম প্রকাশ পায় 
কোনও মেইল আই ডির পাসওয়ার্ডে। 
ধুয়ে মুছে ফেলে দেওয়া অভিমান 
স্পষ্ট ফুটে ওঠে সামনে খোলা বইয়ের পাতায়।

রঙ্গীন জল আর সাদা ধোঁয়ার দুঃখ বিলাসিতা 
অবকাশ পেলেই ঠিকরে বেরায় জমা অভিমানের তেষ্টা। 
জন্ম নেয় আর একটা আনকোরা হাতের লেখায় 
একটুকরো খামখেয়ালীপনা।

আমার রবীন্দ্রনাথ

আমার চিলেকোঠার ঘরে একফালি রোদ্দুর আমার রবীন্দ্রনাথ
আমার প্রেমে অপ্রেমে, ব্যর্থ রাতের অশ্রুধারায় শান্তির সংস্থান আমার রবীন্দ্রনাথ
বৈশাখের দাবদাহে, বাদলের প্লাবনে আর ২২ শে শ্রাবণে আমার রবীন্দ্রনাথ
নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গে, বাউলের একতারায় দিক্বিদিক আমার রবীন্দ্রনাথ।   

স্বেচ্ছাচারী

না আমি ভালো ছেলে নই
অজান্তে অশালীন হই,
না আমি কিছুই বুঝিনা,
বার বার হেরে গিয়ে শান্তি খুঁজিনা।
আমার অকুলীন ক্ষোভে,
এ শহর পাশ ফিরে শোবে
আন্দোলনের রাতে আমিও সাজাবো
শহর পরেই তার বেহালা বাজাবো।


শঙ্কিত আলোকেরা আমাকে না পেলে
দেখবো কেমন করে ডানাগুলো মেলে
উড়ে যায় দূরে যায় খুঁড়ে খায় জানি
আমি আজকাল শুধু আমাকেই মানি,
গৃহহীন আলোহীন একা ফুটপাথে
মন টন খারাপেরা দল বেঁধে হাঁটে
ট্যাক্সি ট্রাম চাপা পড়ে গিয়ে কাঁদে
আমার বিরুদ্ধে সব জোট টোট বাঁধে।


নই আমি কমদামী নই আমি সোজা
অত কাঁচা নই আমি, নই আমি বোঝা
আলস্যে অকারণ ফেলোনা আমাকে
আমি জানি আজও খুশী আমাকেই ডাকে।।